Saturday, 8 March 2014

প্রহসন

সবস্হানে সকলমনে বিষের বসবাস
বিশ্বাসের সঙ্গে লোভ চরম সহবাস
মানুষ যদি হয় সে নারী তার আরোই জ্বালা
ঘরে বাইরে বিপন্ন তার মাটিতে পা ফেলা
নারীবাদী বুলিতে উড়ছে রঙীন ফানুস
নিজের মুখ করছে আড়াল মাংসলোভী মানুষ
নারী আবার মানুষ নাকি নিছক মেয়েছেলে
যুগে যুগে মানুষরাই পিষছে পায়ে ফেলে
লোকদেখানো বাড়াবাড়ি বিশ্বনারীদিবস
বুদ্ধির গোড়া পচনধরা বিবেকটাও বিবশ
নেতা-উজির লেখক-কবি দামী মুখোশখানা
দিনের মঞ্চে নারীকে মা রাতে রাতকানা
বাপ-বন্ধু-স্বামী-পুত্র সঙ্গী সহোদর
স্বার্থটুকু খোঁজার বেলায় অঢেল সমাদর
ট্রামে বাসে রাজ্যপাটে সংরক্ষণ ভারী
পথে ঘাটে কাকে চিলে করছে কাড়াকাড়ি
সংরক্ষণের ঘেরাটোপে লুপ্ত প্রায় প্রাণী
কুসুমের গর্ভে কলি মরছে সবাই জানি
সর্বস্হানে সর্বস্হরে বিঁধছে তাকে সমাজ
নিংড়ে নিয়ে ছিবড়ে ফেলা এই সমাজের কাজ
রামরাবণ সহোদর বন্দী আজো সীতা
তন্ত্রবাজির জাঁতাকলে নিত্য ধর্ষিতা
লুটে নিয়ে শরীর মন আর কি সমাজ চাস
বাঁচার রসদ তোর কি শুধুই নারীর নির্যাস!!????

...........................................................



'বিশ্বনারীদিবস' সত্যিই, শব্দটা শুনলেও হাসি পায়। নাকি ঘৃণা বোধ হয়? কে জানে! আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, যে নারীর জন্যে বাছাই করা দিন বা সংরক্ষিত কোন আসন সে যে স্তরেই হোক না কেন, সে বড়ই লজ্জার, নারীদের জন্য নয়, নারীর মধ্যে তীব্রভাবে বেঁচে থাকা মানুষ নামক সত্বাটির জন্য।
'নারী' এই শব্দটি কি মানুষের নারী পুরুষ  এই  দুইটি সত্বার মধ্যে একটিকে চিহ্নিত করার জন্যেই শুধু ব্যবহৃত হতে পারে না আজও, যখন কিনা আমরা চরম আধুনিক, প্রগতিশীল, তথাকথিত উন্নত সমাজ ও জীবনধারায় অভ্যস্ত বলেই নিজেদেরকে দাবী করছি? নারীকে কেবল নারী না ভেবে মানুষ ভাবতে পারার মত শিক্ষিত কি আমরা কি আদৌ কখনও হতে পারব? দূর থেকে যদি একটি পুরুষকে আসতে দেখি আমরা অনায়াসে বলে দিই যে, একজন মানুষ আসছে। কিন্তু, একজন নারীকে দেখলে সহজেই বলা হয় একটি মেয়ে আসছে, আর এখানে, ঠিক এখানেই তফাতটা!

নারীদের জন্যই বিশেষ দিবস পালনের কি মানে? সম্মান প্রদর্শন? তাহলে পুরুষদের জন্যে বিশ্বপুরুষ দিবস কেন পালন করা হয় না? তারা কি সম্মানের যোগ্য নয়? নারীদের জন্যই কেন সংরক্ষণ? তাদের অধিকার পাইয়ে দেবার জন্যে? তা, নারীদের অধিকার দেওয়া বা না দেওয়ার, এবং তার পরিধি নির্ধারণ করার অধিকারটাই বা কার বা কাদের আছে শুনি ? নারীর জন্যে সংরক্ষণ বা নারীর উদ্দেশ্যে বিশেষ দিবস পালন করার মধ্যে কি নিহিত আছে, তার স্বাধীনতার প্রকাশ,  না চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া যে,
"দেখ নারী তুমি কেমন লাটাই
সুতো রেখে নিজের মুঠোয়, ইচ্ছেমত হাঁটাই.....!"

নারী পুরুষ সৃষ্টিলগ্ন থেকেই আলাদা। ছিল আছে থাকবে। দুর্বলতা ও সক্ষমতা উভয়েরই নিজ নিজ ক্ষেত্রে আছে এবং থাকবে। শুধুমাত্র শারীরিকভাবে অপেক্ষাকৃত কিছুটা কম শক্তিশালী হবার মত একটি নিতান্ত ফালতু কারণে মধ্যযুগীয় বর্বরতা তাকে সয়ে যেতে হবে আর কতকাল? তথাকথিত 'মানুষ' রা আর কত নিযুতকোটিবার ভুলবে যে, মানুষজাতটার দুইটি প্রজাতির মধ্যে শারীরিকভাবে একটু কম শক্তিধর প্রজাতিটির উপরই কিন্তু বিধাতাপুরুষ সৃষ্টিজগতের  সর্বাপেক্ষা কঠিন কাজটির দায়িত্ব দিয়েছেন? সেখানেও কি পক্ষপাতিত্ব এই ভেবে যে, শক্তিধর পুরুষের পক্ষে সৃষ্টিকে ধারণ, বহন,এবং জননের তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করা সম্ভব হতো না বলে? তাই হবে, আসলে বিধাতাও 'পুরুষ' কিনা! আর বিধাতা যে পুরুষই হবেন সে বিধানটাও যে কার তৈরী তার অব্যর্থ প্রমান যে ঠিক কোন ঠিকানায় পাব সেটাই বা, কে জানে!

তো, এইগুলো না জানা কথা, বারবার বলতেও ঘেন্না হয়! তবে, না বলেও থাকা দায়। আবার ফিরে আসি নারীদিবস পালনের মেকি উচ্ছ্বাসের প্রসঙ্গে। এই দিবস কেবল  নারীদের জন্যেই কেন? পুরুষদের ক্ষেত্রে কেন নয়? আমার ব্যক্তিগত মতামত এটাই, এই দিবস পালন শুধু এটাই প্রমাণ করে যে, নারী হল লুপ্তপ্রায় পশু-পাখিদের মত মাইনরিটি,যার অস্তিত্ব, অধিকার বা সম্মান পুরুষ নামক মানুষ মেজরিটির দয়া ও নিয়ন্ত্রণ নির্ভর। আর মানে তো একটাই সমাজ ও বিশ্বের চোখে নারী শুধুই নারী হয়েই রয়ে গেল, মানুষ আর হলো না। আর তাই, একজন মানুষ হিসাবে আমি তীব্র বিরোধ করছি এই নারীদিবস পালন বা সংরক্ষণ নামক চরম অপমানজনক প্রহসনের। নারী মানুষ। তার সম্পূর্ণ ক্ষমতা আছে নিজের যোগ্যতায় নিজের চেষ্টায় নিজের স্হান অর্জন করার। সংরক্ষণের ভিক্ষাদান করে তার মনুষ্য সত্বার খোলামকুচি করা বন্ধ হোক! আর আবহমনকাল ধরে বয়ে চলা এঁদো পাঁকের ঘূর্ণির মধ্যে নিমজ্জিত থেকে বছরে একদিন নারীদিবস পালন করা স্রেফ ভাঁওতা, আর এই সস্তা আড়ম্বড়ে যে নারীরা বড় উৎসাহিত বোধ করেন তাঁদেরকেও বলি, দিদিরা, চোখ খুলুন! কোনটা সম্মান কোনটা অপমান একটুও ভেবে দেখবেন যদি আয়না, ফ্রীজ, টিভি, আর পরনিন্দা পরচর্চার পর হাতে সময় থাকে। আর নারীর নিজের যদি নিজেকে মানুষ ভাবার গরজ না থাকে তাহলে তার শুধু নারীদেহ হয়ে মুখ থুবড়ে পরে থাকাটাই অবিসম্ভাবী, এ নিয়তি খন্ডানো বিধির বাড়া।

তাই, সর্বাত্মকরণে এটাই কামনা করি, নারী-পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক হয়ে পরিপূর্ণতা দিক নিজেদের মানুষ হওয়াকে। মেকি আড়ম্বড়ে নয়, অহংকার বা অবহেলায় নয়, নারী পুরুষের বিভেদে নয়, মানুষের প্রথম পরিচয় হোক মানুষ হওয়াতে। মানুষের পরিচয় হোক মননে, শিক্ষায়। ঊরুসন্ধির ভাঁজে নয়, মানুষ খুঁজুক, চিনুক নিজেদেরকে মস্তিষ্কের উর্বরতায়, হৃদয়ের বিশালতায়।

PHOTO: RABINDRANATH TAGORE ART COLLECTION

Sunday, 23 February 2014

অসহবাস

তুই আসবি ফিরে আসবি
যখন ঋতুরা ফিরবে নতুন করে
অনিচ্ছা সত্ত্বেও তুই রয়ে গেলি
আমার অস্হির-পাঞ্জরে

প্রথম শিশির বসে যখন
রাতে সবুজ ঘাসে
তোর অজান্তে আমি তখন
বসব তোরই পাশে

পাতা ঝরার শেষে পলাশ
ছড়ায় আগুন খেলা
আম-মুকুলের সুবাস মেখে
খুঁজব সারা ফাগুন বেলা

বসন্তের মাতাল হাওয়ায়
তোরে খুঁজব অচিন পাখি
ডেকে ডেকে সারা হব
বুকের ভিতর ফাঁকি

আকাশখানা মেঘলামুখে
আনবে টাপুর-টুপুর
তোর সাথে মিলাবে আমায়
বৃষ্টিভেজা দুপুর

দিনের পর কাটবে দিন
হাজার বারোমাস
শূন্যতার সাথে আমার
সফল সহবাস

তবুও তুই আছিস তুই
আলোকবর্ষ দূরে
হারিয়ে যাওয়া তুই যে আমার
অস্হিতে পাঞ্জরে।



2013 © M.C

Thursday, 20 February 2014

একুশে ফেব্রুয়ারি

আজকাল সবাই এ বি সি ডি; কেউ পড়ে না অ আ ক খ,
তবু বলি মায়েদের একটি কথা রাখ।
শিশুর মুখে বিদেশী বুলি; এটাই যুগের হাওয়া,
অনুভূতির গভীরে তাদের তবু দিও বাংলার মায়া॥

বাংলা মোদের চোখের জল; বাংলা মুখের হাসি,
শিশুরাও বলে যেন, বাংলা ভালবাসি।
শহীদের রক্তে রাঙা বাংলা বর্ণমালা,
জগৎ-সেরা স্বর্ণখনি, মণি-মুক্তোর ডালা॥
হেলাফেলার ধন নয়, এ রত্ন-অমূল্য-ভারী!
মনে রেখো এই দিনটাকে; আজ "একুশে-ফেব্রুয়ারী॥

Tuesday, 18 February 2014

Silly attempt of mine to capture my world... "আমার চোখে ১ "

Dinante jokhon tobo oboshan
Akasher buke bidayi bhasan
Morome loye betha
Ki ba jani bole kotha
Dhoronir kanakani
Nibhrite ekante...

দিনান্তে যখন তব অবসান
আকাশের বুকে বিদায়ী ভাসান
মরমে লয়ে ব্যথা
কি বা জানি বলে কথা
ধরণীর কানাকানি
নিভৃতে একান্তে....

দিনান্তে...THE SUNSET...

Wednesday, 5 February 2014

পোড়া বাতি

দিয়ে যেতে চেয়েছি কারণে অকারণে
না মেনে ধিক্কার বাধা শত বারণে
মানলে না কেউ আর বুঝলে না মনটা
কি বা আমি চেয়েছি চাই নি বা কোনটা
ভুলভাল হিসাবের গরমিল সবটা
ফুসফুস দেয় চাপা পাথুরে ক্ষোভটা
কুয়াশায় আবছা সময়ের রাস্তায়
ক্ষয়িষ্ণু জীবন মিছিমিছি পস্তায়
অংকের খাতায় গোঁজামিল খসড়া
মৃত বিশ্বাসের সারবাঁধা পসড়া
সবটাই পুড়ে ছাই নিয়তির খেলাতে
শ্মশানের স্তব্ধতা মানুষের মেলাতে
বুকে আজো জড়িয়ে কাঁটার ওই হারটা
চুপচাপ গুনছি চাবুকের মারটা
চাবুকটা নির্দোষ দোষ শুধু পিঠটার
আখের গোছায় সবাই বোঝাটা ঠিক তার
সম্পর্ক সমাজের সোজাসুজি সমাধান
স্বার্থটা চুকে গেলে লেখা হয় ব্যবধান
নিজেকে বিলায় সে পারে না যে বলতে
নিভে যাওয়া বাতিটার বুকে পোড়া সলতে
আলোটুকু নিয়ে গেছে পুড়িয়ে সবাই
বাতিলের চিলেকোঠায় বাতি আজ বোবাই
নিঃস্বতা হল সার সব সমীকরণে
তার নাকি লোভ ছিলো প্রত্যাশা পূরণে????!!!!!!!!!!!

Monday, 3 February 2014

সত্যিটা এটাই

আমার সত্যিই সত্যি
অন্যরটা নয়
এমনতর বিশ্বাসেই সত্যের পরাজয়
সত্য যদি মানি তখন
বুঝতে শিখব পরের দহন
যাতনা সব সমান্তরাল
সত্য মাঝপথেই বেহাল
হিংসা-দ্বেষের যাতাকলে
সত্য নাশ হচ্ছে বলে
যুগের পর যুগ ধরে
সত্যবাদীরাই পুড়ছে মরে

Wednesday, 29 January 2014

আমার মৃতদেহ

আমি দেখতে পাচ্ছি
আমার মৃতদেহটা;
শ্বাস নিচ্ছে কিন্তু আমার ফুসফুস;
টের পাচ্ছে না, 
বুঝতেই পারছে না যে বেঁচে আছে। 

বেইমান শরীর আমার থেকে
নিয়ে গেল প্রাণের সুধা,
নিংড়ে নিয়ে আমার বাঁচার রসদ 
কুড়িয়ে জীবন ভেসে বেড়ায়
দিব্যি হেসেখেলে।

কোনটা ছিল না জানি না,
বারণ করবার মন না ক্ষমতা
শুধু জানি লুটিয়েছিলাম শরীরের গায়ে
সবুজ রঙের আবির
আর সে ও নিয়েছিল
দু'হাতে লুটে;
মেখে জীবনের রোদ,
আমায় বাতিল করতে করতে

সে বাঁচছে উত্তাল আজ
বিদ্রুপে হেসে ওঠে আমার দিকে চোখ পড়লে, বলে,
জরা জরা জরা....
আমার প্রাণ তার বুকের ভিতর,
সে আগের চেয়েও যুবা এখন
আমি জড়তা, তার দেওয়া
অসাড় দৃষ্টিতে
সব দেখে যাই।

তার ঔদ্ধত্ব বেঁচে থাকার,
কামের অহংকার
আমার খোলস দিয়ে
নিজেকে খোলসা করে।

জীবন তার অফুরাণ
বেঁচে থাকার উপাদান
আমার প্রাণের বিনিময়ে
নতুন শ্বাস কিনছে শয়ে শয়ে।

উল্লসিত আবেগে
কাঁপছে গভীর আবেশে
নতুনের স্পর্শে তার স্পষ্ট ওষ্ঠাধর,
আমার চোখের উপর দিয়ে
নিচ্ছে জীবনের ওম,
আমাকে বাদ দিয়ে, বাঁচছে
যাবতীয় সুখে
আমারই মৃতদেহ।