Tuesday 31 December 2013

মৃত্যুর জন্মদিনে

কত একুশে ডিসেম্বর আসবে; কত যাবে চলে,
মায়া-সভ্যতা জ্যোতিষীর বাণী;
আজকাল কি ফলে?
আসলে আমরা সবাই মৃত; অকারণে হচ্ছি ভীত
ভাবছি যে বেঁচে আছি,
বাঁচার লোভ প্রতিনিয়ত।
তবু মরছে মানুষ মারছে মানুষ
সুস্থ জীবন?
রঙিন ফানুস!
সময়ের উপর পাপের বড় ঋণ!
প্রত্যেকটি সকাল মৃত্যুর জন্মদিন॥

এমনি একটি জন্মদিনে বা;
কোন মৃত্যুরাতে,
জীবন দিয়ে জীবন চায় মৃত্যুকে চিনে নিতে।
মরণ আবেশে প্রাণের জোয়ার,
এমনি রাতে হয় একাকার---
হয় ব্যস্ত নেশার হাটে,
পৃথিবী ধ্বংস হ'বার রাতে।

স্বপ্ন কিনছে বেচছে সময়,
মৃত্যুর সাথে মন বিনিময়
সওদা মাথা বিকিকিনি,
অনিবার্য চিরন্তনী॥

দেখা হয় জাল মাধ্যমে
সময় দাঁড়ায়; যেন বাধ্য মেয়ে।
মুখ দেখায় দরজা খুলে; মধ্যযামে,
মৃত্যুর হাত ধরে শিশির নামে। 

ধ্বংস-প্রহরে বিনিদ্র পৃথিবী
আঁকা হয় অন্য ছবি,
মৃত্যুর হাতে,
সেই শেষরাতে।

মৃত্যুর আঁতুরঘরে ঠিক তার পরে,
ঠিক হলো আগামীর ভাঙাগড়া,
শেকল পড়ায় রাত;
লুকিয়ে মৃত্যুছোরা!
কুয়াসার রাতে আলো ঝিলমিল!
মরীচিকার টানে আলেয়ার মিছিল।

আসলেতে!
আজকের এই ভাঙাচোরা পৃথিবীতে
এটাই সবথেকে বড় সত্যি!
এখন তো এটাই হয়,
মৃতের জন্মদিনে শবেদের ভীড়,
আর কিছুই নয়।

ভবিষ্যতের হাজার মৃত্যু জন্ম নেয়;
পৃথিবী ধ্বংস হ'বার রাতে।
জীবন-মরণ বাঁধে জোট,
বয় একই খাতে---

মৃত্যু জড়ায় অদ্ভুত সূচনায়,
কাড়ে জীবনের প্রাণ, বিন্দুমাত্রহীন অনুশোচনায়!
আনে জীবনের ধিক্কার!
আলো-আঁধার সব একাক্কার।
জীবনকে আঁকড়ে মরণ-ষড়যন্ত্র,
মাথা থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত।

ঘুণধরা দেয়াল ভাঙায়,
জীবন চমকে থমকে দাঁড়ায়।
তবু মৃত্যুকে করে স্বীকার,
দেয় প্রতিশ্রুতি সাথ দেবার,
উজাড় করে;
ভালবাসার অঙ্গীকার॥

মরণ হাসে মুখটিপে,
ধরে শিকার, একই জালে,
একবার নয়,
বার প্রতিবার।
মাছ খেলায় নতুন ছিপে;
শুষে নেয় নিজের মাঝে,
জীবনের সব রং,কালো করে।

জীবন তবু ধরে বাতিদান;
হাত বাড়ায় জিতিয়ে দেবার সবকটা আশে,
মৃত্যু ঝলসায়! আগুন ধরায়;
তার একশো একটা বিশ্বাসে!

খেলে যায় দিন মাস বছর পেরিয়ে,
জীবনকে নিংড়ায় সব ফুরিয়ে ,
জীবন বিলায় লাল রং
হৃদয়কুসুমের; মৃত্যুর অংশে।
মেটেনা ক্ষুধা; মৃত্যুর স্বাদ জেব্রার মাংসে!

তবু জীবন তাকায় মৃত্যুর পানে,
সাধ যায়, মৃত্যুকে সাজায় অসীম প্রাণে!
সত্যের উপর মিথ্যের মারণ খেলা,
অন্তর্দ্বন্দ চলে সারাবেলা,
মৃত্যুও আকর্ষিত; জীবনের প্রতি,
কামনা তীব্র; নির্মাণ গতি
স্বার্থে দূর্নিবার,
চালে শত্রুতা, যেন এক পরিবার!
জীবন খোঁজে মৃত্যু,
মৃত্যু বোঝে শত্রু,
জেনেশুনে করে গ্রাস, বারোমাস। 
খল আবেশে মুখ না ফেরায়, 
তবু দুজনায়; পিঠোপিঠি ব'সে ঠায়,
পারস্পরিক অমোঘ টানে।

জীবনকে করে ধূসর,
মৃত্যু চিরন্তন দোসর,
জীবন আঁকড়ে থাকে
আঁকড়ে রাখে কাঁকড়ার মত,
শেষ পর্যন্ত।
পান করে প্রাণ, জীবনের বুকচিরে;
জীবনের পরিণতি তারই হাতধরে---

এটাই জীবন, এটাও তো জীবন!
একমাত্র মৃত্যুই সাথ দেয় জীবনের আমরণ;
আমৃত্যু সঙ্গ, চায় শুধু নিতে আর পেতে,
বুকপেতে !
মুখ তার ছলনা, যন্ত্রণা বলেনা,
বুক পোড়ে আর জলন্ত ওষ্ঠাধর!
লুকোনর প্রচেষ্টা জোর,
অভিনয় অনুসঙ্গে;
আছড়ে পড়তে চায়, থামে কপটতায়
অহংকার বহিরঙ্গে!

জীবন-মরণ খেলা এমনি চলে একসাথে,
পরিচিত হয় তারা;
পৃথিবী ধ্বংসের রাতে।
জীবন করে জীবন-ক্ষয়, মৃত্যুর হাত ধরে,
যে আসবে হাজার বছর ধরে,
যখন ঝরাপাতা জীবনের উঠোনে,
কোন মৃত্যুর জন্মদিনে; বা,
একটি জন্মের মৃত্যুদিনে!

সেদিনই হবে সকাল,
ভৈরবীকে বলেছে মহাকাল,
চোখে চোখ হাত রেখে হাতে
জীবনের কানে কানে,
নীলকন্ঠের গানে গানে

বলে গেছে খুবধীরে,
চুপশীতনিরে

আমি আসিব ফিরে আসিব
আবার আসিব ফিরে॥

...........................................................
  The above written lines...or words..I don't know what should I say, or, how to define the writting actually.
Sometimes, we can't express ourselves or our thoughts in a tipical or concrete manner of writting.

  Some writtings are only the extract and rebust expression of our feels, which can't be restricted by so-called rhydomic boundaries. 

  The aforsaid lines are the only outcome of some strange and unusual memories that were supposed to burst out. And, I have added some lines from an old conversation related to the memory, as it was in reality.

  The lines, "আসলেতে ............. শবেদের ভীড়" and the last line, "আমি.........আসিব ফিরে" I have added from someone's comments, who was the second important participant of that conversation, other than me.

...........................................................

  উপরের লেখাটিকে আমি কোনভাবেই কবিতা বলার চেষ্টা করব না, বরং বলব যে, এ আমার কোন পুরনো স্মৃতি এবং তার সাথে নিজের   জীবনের বাস্তবিকতার সামঞ্জস্যকে এলোমেলো অথচ হুবহু তোলে ধরার দুর্নিবার তাগিদমাত্র।

  এবং এতে কয়েকটা লাইন(যা আগেই উল্লেখ করেছি) পুরনো একটি আলোচনায় আমার যিনি অংশীদার ছিলেন তার মন্তব্য থেকেই নেওয়া।

  এবং, এখানে একটা কথা বলা দায়িত্ব মনে করি যে, যদিও আমি লেখক বা কবি নই তবুও নিজের এলোমেলো, অবিন্যস্ত ক্ষমতাটুকু দিয়েই খুঁড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।

  তাই আমার লেখার স্বার্থে ব্যবহার করার জন্যে নয়, বরং এই লাইনগুলোকে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে দিতে চাইনা বলেই এই লাইনক'টিকেও এই লেখায় সামিল করলাম।

  এই লেখায় মৃত্যু বলতে আমাদের জীবনের নানা জটিল ও মর্মান্তিক আঘাত বা বাধা যা আমাদের স্বপ্ন, চলাও বিশ্বাসকে আহত করে, সেটাকেই বোঝাতে চেয়েছি।

*****************************

সময় আসে ফুরিয়ে যাবার জন্য
মানুষ তাকে করে তোলে আরও বিপন্ন
শীত আসে শরৎ হয়ে শীত চলে যায়
স্মৃতিরা ভীড় করে শিরায় শিরায়
বিবর্ণ ঝরাপাতা ঝরে বলে গেল
আগের মত নেই কিছুই; সবই এলোমেলো
নেই নেই বাজছে আজো নিঃস্ব বাতাসে
যন্ত্রণা-স্পর্শে শীত যায় আসে......... 

PHOTO CREATION: M.C

Monday 30 December 2013

THE LAST NIGHT....(31st December)

I don't like the Morning;
The Morning of New Year,
Rather I treasure; the Evening,
The Last Evening of Last Year,

May it has been passed;
And so much very fast;
I can't forget, Ever bother,
That Last Evening; we spent together...

I can't bring it back;
Without a time machine,
That Eve's miracles;
No other can imagine...

Touched my soul;
Reached my inside;
With rush and ease!
Teased that night!

That cold breeze madly;
Held me boldly;
That badly night;
Warmly very tight,
I was astonished and surprisingly pleased!
Welcomed the wind that made me accomplished...

It was a monsoon in a wrong season;
Fool me enjoyed and loved without reason!
It pulled me out, from my insight,
Keeping the storm; very cleverly hide...

I was fool either innocent;
Finding the trouble; fairly descent,
Walked over the dew; on barefoot;
Listening the wind's mesmerising flute!

The illusion suddenly vanished!
My trust was oftenly punished,
It hurt me; as a Gift or cheat;
Thousands of sufferings i had to meet

I faced the strom; the deadly devil,
Killed me; in a manner,keenly skill!

That Eve and Now...
I memorise somehow!
much more broken; i am now killled
Fool heart is full; sadly filled!

Tired I remember, but too much  shocked,
That cold memory has just warmly knocked!
I am MiSsing ; miss the danger;
Deeply feeling; and touch of the stranger,

I feel the killer, that last dark night,
And his torchures; perfectly alright!
Blossom in my breaths and ruin every Winter,
Will comeback to me;
every last night...
....December....

Photo: Collected.
Collage: M.C

Friday 27 December 2013

ইচ্ছেডানার জন্যে

ইচ্ছেডানা তারও ছিল যেমন আছে আমার।
নীল সীমানায় বিলীন হ'ব; ইচ্ছে নেই নামার॥

ইচ্ছে আমার ইচ্ছে তোমার ইচ্ছে বুকের মাঝে
স্বপ্নসুখে মেলছে ডানা, সকাল থেকে সাঁঝে॥

স্বপ্নগুলো সুপ্ত আজো তবু জাগছে চুপিসাড়ে
সবুজ ঘুড়ি অবুঝ বুঝি নীলের অভিসারে?

জানি জীবন জটিল আমার সবার একই গান,
এবড়ো-খেবড়ো পথটা চলার, ওষ্ঠাগত প্রাণ!

কেউ বা ক্লান্ত অবসন্ন; চোখের জলে হাসে,
কেউ জীবন ধরবে ব'লে ছুটছে উর্ধ্ধশ্বাসে! 

কারো জীবন প্রাচুর্য তার পাঁচমহলা বাড়ি,
তবু কেন কে জানে তার খুশীর সাথে আড়ি?

একবেলা ভাত জোটে যার দিনটা জুড়ে খেটে,
মাথার ঘাম মুখের হাসি মেটায় না তার মোটে

হয়তো কেউ পরের স্বপ্ন সাজায় নিজের চোখে
কেউ স্বপ্ন করছে চুরি মারছে ছুরি বুকে!

ইচ্ছে করে ইচ্ছে দিয়ে কেউ বন্ধুকে দেয় সাথ,
উপহারে জুটছে তার অন্ধ কালো রাত॥

আঁজলা ভরে দিচ্ছে কেউ স্বপ্ন সাগর দান,
লুটছে যেজন সেজন তারে করায় রক্ত-স্নান!

আহত আজ স্বপ্নেরা সব মনের কানায় কানায়,
ভাবছে তবু ভরবে উড়ান ইচ্ছে-পাখির ডানায়।

অনেক রকম মানুষ আর স্বপ্ন হরেক রকম,
কারো স্বপ্ন নতুন কুঁড়ি কারো আবার  জখম।

তবুও স্বপ্ন দেখছি আমরা দেখতে নেই বারণ,
বেঁচে থাকার এটাই কিন্তু আসল সঠিক কারণ।

হাসছি আমরা হাসব তবু নিয়ে হাজার ক্ষত,
ইচ্ছেরা রোজ উঠবে বেঁচে ফিনিক্স পাখির মত॥

-------------------------------------------------

আমাদের শহর শিলচর থেকে 'ইচ্ছেডানা' নামে নতুন একটি ম্যাগাজিন সম্প্রতি প্রকাশিত হচ্ছে, যাকে সবধরনের বিষয়ের ডালি  দিয়ে সাজিয়ে তোলার সুন্দর প্রচেষ্টা করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগতভাবে আমার বেশ ভালো লেগেছে। এই ম্যাগাজিনটির মাধ্যমে সব ধরনের পাঠকরা যেমন মনের খোরাক পেতে পারেন, তেমনি স্হানীয় সাধারণ মানুষরাও হয়তো নিজেকে মেলে ধরতে পারবেন নিজেদের নানা ধরনের শিল্প বা কাজের মাধ্যমে, এইটুকু আশা করছি। তাই সবার ইচ্ছে নিয়ে 'ইচ্ছেডানা'র উড়ান সফল হোক, এই শুভেচ্ছা নিয়েই লিখলাম "ইচ্ছেডানার জন্যে"।

(এই কবিতার শিরোনাম অন্য কোন কবির কবিতার নামের সাথে মিলে গেলে সেই ব্যক্তিরা যেন এটা না মনে করেন যে, তাঁদের ব্যবহৃত আইডিয়া বা শব্দ অনুকরণ করা হয়েছে। কারণ, শব্দ বা কল্পনা কখনোই কোন ব্যক্তিবিশেষের মালিকানাধীন বা ক্রীতদাস হতে পারেনা। তবুও আমি এই বিষয়টা পরিষ্কার করে দিলাম, কারণ আজকালকার বুদ্ধিজীবিরা অন্যের ছিদ্রান্বেষণে এত তৃপ্ত হন যে, অন্যের করা প্রত্যেকটি কাজেই তাঁরা তাঁদের বিরুদ্ধে করা কোন না কোন ষড়যন্ত্রের গন্ধই খুঁজে বেড়ান। আজকাল সময়টাই এমন, যেখানে স্বার্থই হয়ে উঠেছে বন্ধুত্বের সংঙা, অকপটে নিঃস্বার্থভাবে বাড়ানো হাতে কোপ বসানোই আধুনিক সমাজের দস্তুর, আর মেকি তোষামোদকারিদের স্হান হয় মাথার উপর। কোন ভাল উদ্দেশ্যে, কাজের উন্নতির জন্যে দেওয়া পরামর্শকেও নাম দেওয়া হয় হিংসার বা কু-সমালোচনার। নিজের গাঁথা অবিন্যস্ত মালাকে যে সুবিন্যস্ত করে সাজিয়ে দেয়, সেই বন্ধুকেই মানুষ বিদ্রুপ করে বাজারে বসে সেই মালাটিই গলায় পড়ে।

সমাজের এই কদর্য রূপ আমার দেখা আছে বলেই, এই হীনমন্যতা ও সন্দেহপ্রবণতায় ডুবে থাকা মনগুলো দেখেছি বলেই আমার "ইচ্ছেডানার জন্যে" এই কথাগুলো বলতে বাধ্য হলাম।)

Saturday 21 December 2013

Freedom Movement Of Bangladesh & India Government's Support: Few Words | বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও তৎকালীন ভারত সরকারের অবদান: কিছু কথা

-------------------------------------------------

      আজ এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে যাচ্ছি যা নিয়ে কথা বলা বা লেখা ধৃষ্টতামাত্র। কিন্তু, আজকাল বিভিন্ন বৈদ্যুতিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বাংলাদেশের জনগণের নানারকম মতবাদ ও মন্তব্য(যার লিংক বা প্রমান আমি এখানে দিতে পারি,  কিন্তু, সেটা আমার আসল উদ্দেশ্যে নয়)  আমাকে এই ধৃষ্টতা করতে বাধ্য করেছে। কারণ সেইসব পোস্টে অহরহ আমার দেশ ভারতবর্ষকে সরাসরি অপমান করা হচ্ছে এই বলে যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা অর্জনে ভারতের নাকি কোনই ভুমিকা ছিলো না!

   আমার জ্ঞান ভান্ডারে এত প্রাচুর্য নেই যে যা বলতে চাই তা সম্পূর্ণরুপে প্রকাশ করতে পারব। তাই আমার নিজের বক্তব্যের পরে পরেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ভারতের অবদান সংশ্লিষ্ট একটি পোস্ট সংযুক্ত করে দিলাম, যা ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।তবে, তার আগে নিজের মনের কিছু বক্তব্য রাখছি, আমার এই বক্তব্য কোন জাতি বা দেশকে কোনভাবেই অপমান বা আঘাত করার উদ্দেশ্যে নয়, যা আশা করি যেকোনো দেশের সুস্থ বুদ্ধির পাঠক পাঠিকারা সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন।

  এবার আসি মূল প্রসঙ্গে যা বাংলাদেশেরই কয়েকটা পোস্টে বিভিন্ন বৈদ্যুতিন মাধ্যমে এমন কিছু কথা আজকাল ফলাও করে বলা হচ্ছে, যা সরাসরি এটাই প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের বর্তমান নাগরিকরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনে তৎকালীন ভারত সরকার যে বিপুল পরিমাণ অকুন্ঠ সাহায্য দান করেছিলেন সেটাকে যেনতেনপ্রকারেণ অস্বীকার করে সেটাকে তুচ্ছ প্রমান করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত থেকে যে বিপুল সংখ্যক সেনা পাঠানো হয়েছিল পাক-সেনাদের পরাস্ত করতে তার কিছুমাত্রও নাকি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখেনি। তাঁদের মতে একমাত্র বাংলাদেশের মুক্তি-বাহিনীর ক্ষমতাই বাংলাদেশকে স্বাধীনতার স্বাদ পাইয়ে দিয়েছিল, ভারতীয় যোদ্ধাদের সেক্ষেত্রে কোন অবদানই ছিল না!

   এখানে একটা কথা না বলে পারছি না যে, বাংলাদেশীয়দের এই মনোভাব বিশ্বের দরবারে প্রকাশ পেলে, তা তাঁদের পক্ষে হবে বড়ই লজ্জার, আর তাঁদের এই ধারণাই যদি সত্যি হবে, তাহলে তৎকালীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষস্হানীয়রা ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সাথে দিল্লিতে তাঁর সাথে দেখা করে ভারতের সাহায্য কামনা করতেন না। এবং শ্রীমতি গান্ধী সহায়তার আশ্বাসই শুধু দেননি, বাড়িয়ে দিয়েছিলেন বন্ধুত্বের সাহায্যের সহস্র হাত, সহস্রভাবে যা, আধুনিক বাংলাদেশের মুষ্টিমেয় কিছুসংখ্যক (কিছুসংখ্যক এই কারণে বলছি যে, আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের সব নাগরিকরা নিশ্চয়ই এই ধরনের ভ্রান্ত হীন মানসিকতার শিকার নন) মানুষ না মানলেও ইতিহাস তার সাক্ষী। সত্যিটা সত্যিই, সে কারো মানা বা না মানার অপেক্ষা রাখেনা। আর গর্বিত ভারতবাসী হিসাবে বলব, পরকে আপন করে নেওয়া, বিপদে শত্রু মিত্র ভুলে আশ্রয় ও সাহায্য দান করার নজির ভারতের মত আর বিশ্বে কোথাও নেই। এ যে ভারতবর্ষের ঐতিহ্য, সনাতন সংস্কার।

   আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ও(INTERNATIONAL RELATION)  এই  পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মৈত্রীর সহবাসই বিশ্বের মূলকথা। কাজেই প্রতিবেশী দেশের সাহায্য নেওয়া বা প্রতিবেশী দেশকে সাহায্য করা প্রতিটি দেশের যথাক্রমে নায্য দাবী এবং নৈতিক  কর্তব্য। তাই সেটা নিয়ে বাহবা কুড়োন আমার এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকে তুচ্ছ বা নিরর্থক বলে অপমান করার চেষ্টা করলে একজন ভারতীয় হিসেবে প্রতিবাদ না করে থাকার মত এতটা মোটা চামড়ার ও নই।

  আর রইল বাকী মুক্তিযোদ্ধাদের সংগ্রামের কথা। সেক্ষেত্রে বলব, নিজের দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করার লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশী বলিদান ও অবদান সেই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদেরই থাকে, তা চিরন্তন সত্য। তাই হওয়া উচিত, হয়ে আসছে হয়ে থাকবে। বিশ্বের ইতিহাস তো তাই বলে। কিন্তু, তাই বলে সেই চরম বিপর্যয়ের দিনে যে দেশ বা ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়ায়, পরবর্তীতে তাঁদের সেই অবদানকে অবজ্ঞা, অপমান, অস্বীকার করলে সেই কৃতঘ্নতার কালি বিশ্বমানবিকতার রুপকেই কলঙ্কিত করবে, আর কিছুই নয়। এবং এভাবে চলতে থাকলে INTERNATIONAL RELATION এর সঙাটাই হয়তো লোপ পাবে। নিজের ঘরে আগুন লাগলে ঘরের লোক ত জল ছেটাবেই, এটাই  স্বাভাবিক। কিন্তু, তাই বলে আগুন নেভাতে ফায়ার ব্রিগেডের ভূমিকাটা ভুললে আখেরে ক্ষতিটা হবে নিজেদেরই। ঘাট পেরোলে খেয়ানী শালা, এই মনোবৃত্তি কতটা হীন প্রতিপন্ন করবে নিজেদেরকে, একটু ভেবে দেখলে ভাল হয়। আর তারপরেও যদি এই মনোভাব না বদলায় তাহলে বুঝতে হবে, সেই সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে পাক-সেনাদের পরাস্ত করতে যে ভারতীয় যোদ্ধারা রক্ত ঝরিয়েছিলেন, অকাতরে নিজেদের অমূল্য প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন, সেটা ছিল তৎকালীন ভারত সরকারের বিরাট ভুলসিদ্ধান্তের মাশুল!  কিন্তু, না, একজন ভারতীয় হিসাবে আমি সেকথা বলতে পারিনা, ভারতবর্ষের সনাতন শিক্ষা ও সংস্কার ত অন্য কথা বলে, বিশ্বভাতৃত্বের কথা বলে, যা আগেই বলেছি। কোন ব্যক্তি, কোন জাতি বা কোন দেশই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। পারস্পরিক সম্প্রীতি, সদ্ভাব, বোঝাপড়া ও আদান-প্রদানের উপর ভিত্তি করেই টিঁকে আছে সমগ্র বিশ্বের, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামো। সেটা ভুললে চলবে কেন?

  অবশেষে বলব, বুকে বিষ নিয়ে নয়, মুখে হাসি নিয়ে, বাংলাদেশী ও ভারতীয় এই ভেদাভেদ ভুলে অনাবিল হৃদয়ে আমরা আসুন না নিজেদেরকে প্রতিবেশী বলে সমাদর করি একে অন্যের। তোমরা আমরা না বলে আমরা একসাথে নিজেদেরকে "আমরা বাঙালী" বলেই এক হই মনে প্রাণে।

আসলে তো মোরা একই সূত্রে বাঁধা ।
একই বর্ণমালায় মুখের বুলি বাঁধা ॥

যেমন বেঁধেছিলেন কবিগুরু "জনগণমন" কে "সোনার বাংলায়"।

2014 © M.C
...........................................................

Here, is a link, and photos, collected from internet, A post about India's support in Bangladesh Freedom Movement.
Please, go through.

http://archive.thedailystar.net/magazine/2009/12/02/special_feature.htm

Special Feature Forgotten Friends 
........................................................

From India to Edward Kennedy, many nations and individuals had helped Bangladesh during its War of Liberation. Thirty-eight years after its independence, the country is yet to recognise many of its friends who helped its cause at a time when help was badly needed. Ahmede Hussain On a dark night of 1962 Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, befooling the Pakistani border security guards, crossed the India-Pakistan border at Comilla. Bangabandhu was arrested by the members of the Border Security Force (BSF), and was taken to the nearby police station. Mujib made a call to the District Magistrate (DM) and told him that a plane was supposed to be waiting for him at the airport to take him to Delhi. Throughout 1962, Mujib had been secretly talking to the Indian government officials at the country's Deputy High Commission in Dhaka. Masterminded by Bangabandhu himself, the plan was for the independence of East Pakistan-- Bengali officers and jawans of the Pakistan Army and East Pakistan Rifles would lead an armed uprising to liberate the country from Pakistan; Awami League was going to be at the forefront of the struggle. Bangabandhu secretly crossed the border on January 27 in the hope of going to Delhi to put his plan before the Indian premier. Unaware of Mujib's visit, the DM at Agartala told Bangabandhu to go back home as neither the Deputy High Commission nor Delhi had informed him of Mujib's sojourn. Mujib was dropped near the border, where he sneaked into Comilla again. Six years later, the Pakistan government charged Mujib with sedition, saying that he had hatched a conspiracy in Agartala to create a separate nation. Indira Gandhi In fact, Indian hand in Bangladesh's independence can be traced back as far away as 1962. The country was closely watching the political developments on its eastern frontier, and when the Pakistan Army launched Operation Searchlight on the night of March 25, 1971, India was quick to react. From the morning of March 26, Indian government-run radio station Akashbani stopped their regular programmes and repeatedly announced the news of the massacre in Dhaka: "'Civil war has started in East Pakistan,' it declared," says Abul Fateh who tuned into the station at 12 in the morning that day, "it was so reassuring to hear the news amidst the death and destruction." More reassuring was the song that followed the news snippets. At the dawn of the darkest of night in the history of the Bengali nation Akashbani played Amar Shonar Bangla, Ami Tomae Bhalobashi (My Golden Bengal, I adore you), which later became Bangladesh's national anthem. "We were overjoyed. This one song has given us courage, hope and the dream to fight on," Abul says. On March 27, Tajuddin Ahmed and other leaders of the Awami League crossed the border and were received with due honour by the BSF. They met the then Indian Prime Minister Indira Gandhi in Delhi. Tajuddin was assured of all help that his fledgling nation needed. “We had Mujib's declaration…Zia's declaration on independence. When the refugees started coming in, I was standing on the border… they were in a very shocking state. Soon we started getting more and more refugees and the government of India decided that we should help the Muktibahini, the freedom fighters,” says Lt Gen (rtd) JFR Jacob, former chief of the Indian Army. Two days after Tajuddin's arrival, Indira Gandhi declared that India would open its border and welcome Bengali refugees to its soil. "It was an unprecedented decision, for countries usually close its borders when refugees pour in," says Shahriar Kabir, who is researching on India's involvement in Bangladesh's Liberation War. On March 31, Indira Gandhi herself moved a resolution in the parliament, which went: "The House records its profound conviction that the historic upsurge of the 75 million people of East Pakistan will triumph. The House wishes to assure them that their struggle and sacrifices will receive the wholehearted sympathy and support of the people of India." Indian help increased as the number of refugees flooded Salt Lake and Agartala. In the first week of April India had started arming the freedom fighters, it got a momentum after the Bangladesh government in exile was formed on April 17 in Mujibnagar, Meherpur. Not only that India also sent its own troops in guise of freedom fighters to fight for the cause of Bangladesh, long before it formally recognised Bangladesh's sovereignty. "Officially," says Kabir, "India joined the war on December 3. But India had always sent its own army men to East Pakistan to fight alongside the Muktijoddhas." In fact, on May 15, the Indian Army launched an operation codenamed 'Operation Jackpot'. It coordinated 30,000 regular soldiers and 100,000 guerrillas who effectively destroyed the infrastructure of the Pakistan Army. Even though Lt Gen Jacob puts Indian death toll at 1,400; unofficially, Kabir says, it could be as high as 20,000. "Pakistan Army arrested many Indian soldiers in March-November and paraded them before TV cameras," says Kabir, "and all of them were Indian jawans who infiltrated into East Pakistan to fight for Bangladesh." On the diplomatic front Bangladesh got a huge boost thanks again to a whirlwind tour that Indira Gandhi had made to the Western European capitals. By the time her trip was over, Bangladesh had the support of the people of Britain, France, Germany and Austria by its side. The Soviet Union and its friends, meanwhile, supplied the Muktibahini with arms and military logistics and in mid November the combined strength of the freedom fighters stood at 1,49,000 compared to Pakistani strength of 85,000. At the fag end of the Bangladesh War, the Soviets vetoed thrice at the United Nations against proposals opposing Bangladesh's independence. US Senator Edward Kennedy, Congressman Cornelius Edward Gallagher played a crucial role in creating opinion in favour of Bangladesh; singers Ravi Shankar, George Harrison and Joan Boaz staged the famous Concert for Bangladesh to raise funds for Bangladeshi refugees; French author André Malraux championed Bangladesh's cause across Europe. But Indians beat them all: in 1971, Indian actress Waheeda Rahman, famous for her roles in 'Kaagaz Ke Phool' and 'Sahib Bibi Aur Ghulam', donated signing money of all her films to Bangladesh Shohaok Samiti (Bangladesh Assistance Association), Oscar-winning director Satyajit Ray raised money for the organisation. Artist Maqbool Fida Hussain exhibited his works on the streets of Bombay and donated the earnings. On December 3, sensing defeat, the Pakistan Army launched Operation Chengiz Khan, a pre-emptive air strike on Indian airbases in Amritsar, Ambala, Agra, Awantipur, Bikaner, Halwara, Jodhpur, Jaisalmer, Pathankot, Srinagar and Uttarlai. The operation ended miserably and only spelled disaster for the Pakistan Army both on its eastern and western wings-- India declared war on Pakistan; Bhutan recognised Bangladesh on December 6; India followed suit. The next day, India launched a final military push towards Dhaka and within 14 days, the great Pakistan military establishment was on its knees on the Race Course of Dhaka. Thirty-eight years after its independence, Bangladesh is yet to honour the help that Indira Gandhi had given us when as a nation we plunged into an abyss of darkness. "Bangladesh should name a street after her and Edward Kennedy," Abul says. The government can also erect a monument to honour the Indian soldiers who laid down their lives for Bangladesh's independence. Those who fought in the war can be given an honorary medal. "Bangladesh should also give honorary citizenship to the foreign fighters who fought alongside the Muktijoddhas," he says, "Such token gestures could be a small way of showing our gratitude."  

*Copyright (R) thedailystar.net 2009*

Tuesday 10 December 2013

বিমূঢ়

আমি জানি তোর ছটফটানি,
তোর কষ্ট নিজের বলেও মানি, 
তবু আমি অসহায়,
কারণ, তোর কষ্ট যে শুধুই স্বার্থ;
আর লুকিয়ে স্বার্থ আদায়!

পারলাম না দিতে তাই;
এমন তো নয় যে,
আমার দেওয়ার কিছুই নাই!
কিন্তু নিজের সত্তা মেরে,
শুধুই অন্ধ মোহের ঘোরে,
কি করে হাত বাড়াই?

তাহলে হ'বে সবই ভুল,
যাবে মন মান আর কূল!
অন্যায় দাবী মেনে,
শিখিনি চলতে জীবনে
গড্ডালিকা অনুসরণে,
লোভের উপকরণে,
মূল্যবোধ অপসারণে;
মেরূদন্ডহীনের মত,
কিম্বা সরীসৃপ যত,
এমন হব আমি?
তবে জীবন যাবে থামি!

মন আর মানে,
আমার মন রাজমহল।
নয় বাঈজী-কোঠা; বেলোয়াড়ী-নাচ-মহল!
একটিই পথ আসা-যাওয়ার,
খিড়কী নয়, স্রেফ্ সিংহ-দুয়ার॥
এর বাইরের জগৎ,
নয় সে আমার চলার পথ!

তাই, চুপচাপ তোর কষ্ট দেখে যাই,
বিশ্বাস কর,
কষ্ট আমিও পাই!!
হয়তো কখনো কাঁদব,
তোর স্মৃতি নিয়ে রাত জাগব।

তবু আমি অসহায়!
অবৈধ তোর দাবী; কিকরে মানা যায়?
জাগছি তোরই সাথে,
তবু আলাদা একই রাতে,
অনায্য তোর দাবী,
বল, কিকরে হাত বাড়াই?

Friday 6 December 2013

এই তো আমি

কি করে বন্ধ হয়ে যায় জানলাগুলো?
নিজেদের ইচ্ছে হলে টোকা মারার আগেই দরজা খোল!
ভাল করে চেনার আগেই হুড়মুড় করে চলে এসে,
চোখে চোখ রেখে বসে পড় এক্কেবারে গা ঘেঁষে---

কথা বল যেন, কতকালের চেনা!
গুম মেরে যাওয়া মনে শখে আনাগোনা------
রোজ রোজ খোলে বন্ধ গরাদ ,
মিলমিশ্ বন্ধুত্ব; শাঁখের করাত!

তোমরা কি ভেবে দেখেছ কখনো একবার,
নাহ্, তোমাদের সময়ই বা কোথায় ভাববার?

তবে, বলছি আমিই শোন!
আমারও অত সময় নেই ---
তোমাদেরকেই শুনব,
সবসময়ই----

আরে বুঝি, বুঝি সবটাই, ----
ভেবে নিয়েছ বোকা,
জাননা, জেনেশুনে খাই ধোঁকা।
আসলে মুখের উপর না করতে না পারা,
এটাই ভুল, করছি বাঁধাধরা॥

নাহলে, সবটাই তো জানি!
আমার ডুবজল আর কার কতটা পাণি!
তবুও বলছি অভ্যস্ত নই অতটাও,
বুঝিনা, কিকরে রাতারাতি যে পাল্টাও!!

অদ্ভুত তোমাদের দেশ!
কখনো আঁতুরঘর কখনও শ্মশান-সমাবেশ!!
অকারণ বিশ্বাসে যদি যাই,
নিঃশ্বাসটাই পুড়ে ছাই!

বলছিনা যুধিষ্টির, আমার কথারা তবু স্হির।
পাল্টায়না বারে বারে,
নিজের মত করে সচেতন তারা।
দোষ চাপাতে যায় না একে অন্যের ঘাড়ে!
তারা সবাই এক, শুরু থেকে শেষ অব্দি ।
রং বদলায় না গিরগিটির পদশব্দে॥

নিজেকে দিয়েই বিচার করি
তাই তোমাদেরটাও ঠিক ধরি,
তবু কেন হই নীল বিষে?
খলবল জাঁতাকল রোজ যাচ্ছে পিষে!! 
মানুষকে মান ইয়ার্কি, মনুষ্যত্ব মিছে।
হেসে হাতে হাত, মন কাঁকড়াবিছে!

শোন! আমার না অত সময় নেই!
বহুবার তোমাদের গানে আমার সুর হারিয়েছে খেই!
সময় শুধু দিয়েছি, দেই ভালবেসে,
আমারও আছে অনেক কাজ,
দিন শুরু থেকে শেষে।

হয়তো নইকো দামী, তোমাদের মত আমি,
তবু আমি আছি আমার মতো,
আছে অনেক খুঁত আর হাজারখানেক ক্ষত,
আর বাঁচার শতেক লড়াই!
কোথায় করছি বড়াই?

তাই নিয়ে বেঁচে থাকি,
মনটা নয় ব'লে ফাঁকি
তোমরা বাড়ালে হাত বিশ্বাসে দেই সাথ। 
এ আমার বাঁচার ধরন;
অন্যরকম গড়ন।

মানুষ নয় মজা, করিনা হেলাফেলা,
তোমরাও এবার থেকে এইটুকু নাও শিখে,
বুঝিনা ছলাকলা,
মাথা খাও,
মাথাটা আর করবে না ঝালাপালা!

আসতে যদি চাও, আস্তে পা বাড়াও,
পাবে চেনা আমায়, যদি বন্ধুই থেকে যাও!
মান মন মানুষ,
কিছুই নয় ফানুস।

বিশ্বাসের নিলামী, সন্দেহের গোলামী,
যদি ঝেড়ে ফেলে দাও
বাড়িয়ে দিও পা ও...
তবে নেবো না আর জ্বালা
সইবো না আর খেলা!

খোলা বাতাস প্রাণে, যদি আস আমার সনে,
না হয় যদি খেলা; যেমন আগের বেলা,
তবে নতুন ঠিকানায়,
মন ভরিও কানায় কানায়,
যদি সময় ঘুরে দাঁড়ায়,
আমি ও ঝাড়বো স্মৃতির ধূলো॥

Wednesday 4 December 2013

চাঁদকে

পড়ে থাকবে বুঝি
আঁধারে মুখ গুঁজি?
কল্পনাসুখগুলো
পড়বে তাতে ধুলো!
সাজানো আমার ডালা,
তাতে তোর বিজয়মালা।
চাস না যদি নিতে
দোষ কি আমার তাতে?
কেন রয় সে সুখে
পিছিয়ে পড়ার দুখে!
আমার মনের মাঝে-
স্বপ্ন সকাল-সাঁঝে।
দেবো কেমন করে;
গুমরে তারা মরে!! 
প্রাণের মাঝে আয়!
সময় বয়ে যায়---
রেখেছি যতন ক'রে,
রতন, রতন তরে।
দিয়ে যাব এইবেলা,
নইলে বাসী ফুলের মালা।
হাত বাড়ালেই পাস,
আমার আড়ালে বাস---
সাজবে সবুজ মেলা,
তোরই নেশার খেলা।
শব্দ আছে হাজার;
সোনাসুখের বাজার।
না কুড়ালে রং,
জীবন সাজে সঙ্!
আকাশ-মেঘে জল,
তোর কতটা চাই বল?
দেবো উজাড় করে,
কেবল কবির কড়ে।
আবার ছবি আঁকা,
তোরই নামটা লেখা।
সুধা সে জীবনজুড়া,
হৃদমদিরার সুরা।
চাইলে করিস স্নান।
মুখ কেন তোর ম্লান??
যা আছে সব আমার,
সবটুকু তোর নেবার। 
ডাকছে সুদূর দূরে----
শুধু, শুধুই তোরে-----
তুই দামাল হাওয়া ঝড়ে!
বুকে আছড়ে পড়ে,
আঁকবি নতুন ছবি,
সঙ্গী নবীন রবি।
তোর গায়ে তার আলো,
সূর্য্য বাসছে চাঁদকে ভালো॥